EPF সুদের হার ৮.৬৫ জারি হল বিজ্ঞপ্তি



                                           



এবার থেকে EPF প্রায় ছ’কোটি গ্রাহক বার্ষিক ৮.৬৫ শতাংশ হারে সুদ পাবেন। অবশেষে এই মর্মে কর্মচারী প্রভিডেন্ট ফান্ডের  বার্ষিক সুদের নয়া হারের বিজ্ঞপ্তি জারি করল কেন্দ্রীয় শ্রমমন্ত্রক। আজ মন্ত্রকের পক্ষ থেকে এক প্রেস বিবৃতিতে এ কথা জানানো হয়েছে। ২০১৮-১৯ অর্থবর্ষের হিসেবে এই ৮.৬৫ শতাংশ হারে সুদ গ্রাহকদের দেওয়া হবে। এতদিন পর্যন্ত EPF গ্রাহকেরা বার্ষিক ৮.৫৫ শতাংশ হারে সুদ পাচ্ছিলেন। গত ২২ ফেব্রুয়ারি কেন্দ্রীয় শ্রমমন্ত্রকের আওতাধীন কর্মচারী  সংগঠনের  বৈঠকে ইপিএফের বার্ষিক সুদের হার ৮.৫৫ শতাংশ থেকে দশ বেসিস পয়েন্ট বৃদ্ধি করে ৮.৬৫ শতাংশ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কিন্তু সাত মাস কেটে গেলেও এই ইস্যুতে কোনওরকম বিজ্ঞপ্তি জারি না হওয়ায় গ্রাহক মহলে তীব্র অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছিল। আজ উল্লিখিত বিজ্ঞপ্তি জারি করে কেন্দ্রীয় শ্রমমন্ত্রী সন্তোষকুমার  জানিয়েছেন,EPF  গ্রাহকদের এই নতুন হারে সুদ দিতে কেন্দ্রের বছরে খরচ হবে প্রায় ৫৪ হাজার কোটি টাকা।
অন্যদিকে EPF আইন সংশোধন সংক্রান্ত কেন্দ্রের প্রস্তাবের বিরোধিতায় সোচ্চার হয়েছে সর্বভারতীয় শ্রমিক সংগঠনগুলি। এই ইস্যুতে আজ দিল্লিতে কেন্দ্রীয় শ্রমমন্ত্রী সন্তোষকুমার  বৈঠক বয়কট করেছেন শ্রমিক সংগঠনের সর্বভারতীয় নেতারা। ইপিএফ আইন সংশোধন সংক্রান্ত উল্লিখিত খসড়ায় কেন্দ্রীয় শ্রমমন্ত্রক প্রস্তাব দিয়েছে, এমপ্লয়িজ পেনশন স্কিমে (EPS) আওতায় থাকা অবসরপ্রাপ্ত গ্রাহকেরা ন্যাশনাল পেনশন সিস্টেমের (NPS) আওতায় আসতে পারবেন। পাশাপাশি কর্মী প্রভিডেন্ট ফান্ডের  অর্থের (কন্ট্রিবিউশন) হারও কমিয়ে দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে সংশ্লিষ্ট ওই খসড়ায়। এইসব প্রস্তাবেরই বিরোধিতায় সরব হয়েছে শ্রমিক সংগঠনগুলি। এ ব্যাপারে AITTUC সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক শঙ্কর সাহা বলেন, ‘কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর ডাকা বৈঠকগুলিতে আমরা কোনও প্রতিবাদ জানালেও সেগুলি গ্রাহ্য হয় না। পরিবর্তে বলা হয় সর্বসম্মতিক্রমে আগের সিদ্ধান্তই বহাল থাকছে। EPF আইনের সংশোধন সংক্রান্ত প্রস্তাবেরও আমরা বিরোধিতা করেছিলাম। তাও মানা হচ্ছে না।’
UTUC’র সাধারণ সম্পাদক অশোক ঘোষ বলেন, ‘খসড়া প্রস্তাবের বিরোধিতা করেই বৈঠকে হাজির হইনি আমরা। এই প্রস্তাব আইনে পরিণত হলে শ্রমিক-কর্মচারীদের সামাজিক সুরক্ষার গোটা অভিমুখটিই পরিবর্তিত হয়ে যাবে।’ পরে ১০টি শ্রমিক সংগঠন কেন্দ্রীয় শ্রমমন্ত্রীকে চিঠি পাঠিয়ে জানিয়েছে, ‘এই বৈঠকে কংগ্রেসের শ্রমিক শাখা INTUC’কে আমন্ত্রণই জানানো হয়নি। যেহেতু শ্রমিক সংগঠনগুলির কোনও প্রতিবাদকে মান্যতাই দেওয়া হচ্ছে না, তাই এবার থেকে যাবতীয় মন্তব্য লিখিত আকারে পাঠানো হবে কেন্দ্রীয় শ্রমমন্ত্রকে।’ যদিও এদিন কেন্দ্রীয় শ্রমমন্ত্রীর ডাকা বৈঠকে হাজির হয়েছিলেন গেরুয়া শিবিরের শ্রমিক সংগঠন BMS প্রতিনিধিরা। যার জেরে শ্রমিক সংগঠনগুলির ঐক্য নিয়ে ফের প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

Post a Comment

0 Comments