করোনায় ছেলেরাই এত বেশি মরছে কেন? যা জানালেন গবেষকরা - WEBMULTICHANNEL

Header Ads

করোনায় ছেলেরাই এত বেশি মরছে কেন? যা জানালেন গবেষকরা

গোটা বিশ্বে করোনায় এখনও পর্যন্ত যত মৃত্যু হয়েছে, তার সিংহভাগই পুরুষ। শতাংশের হিসেবে গেলে, পুরুষদের পাশে মেয়েদের মৃত্যু কিছুই না। কিন্তু, কেন করোনায় পুরুষের মৃত্যুহার এত বেশি। জানুন, কী বেরিয়ে এল গবেষণায়।



ইতালিতে করোনাভাইরাস যখন পিকে, রোজ প্রায় হাজারের কাছাকাছি মানুষ মারা যাচ্ছেন, চিকিত্‍‌সকেরা লক্ষ করেন কোভিড-১৯ মৃত্যুর ৭০ শতাংশই পুরুষ। শুধু ইতালি বলে নয়, ব্রিটেন থেকে ব্রাজিল, ইরান থেকে ইন্ডিয়া, পাকিস্তান থেকে পেরু-- সর্বত্র পুরুষের মৃত্যুহারই বেশি।
স্বাভাবিক ভাবেই এর রহস্য উদঘাটনে নেমে পড়েন গবেষকেরা। মাসখানেক ধরে গবেষণা চালিয়ে বিশেষ এক ধরনের এনজাইম বা উত্‍‌সেচককে শনাক্ত করেছেন বিজ্ঞানীরা।
গবেষণায় দাবি, ওই এনজাইম শরীরে বেশি মাত্রায় থাকার কারণেই বিপত্তি। COVID-19 সংক্রমণে পুরুষের মৃত্যু বেশি হচ্ছে। কারণ অনুসন্ধান করতে গিয়ে গবেষকরা দেখেন, বিশেষ ওই এনজাইমটি করোনা ভাইরাসের অনুকূলে কাজ করে। যার ফলে, ভাইরাসটি প্রবল ভাবে পুরুষের শরীরের কোষগুলোকে আক্রমণ করে। অপর দিকে, শরীরে বিশেষ এই উত্‍‌সেচকের স্বল্পতাই মেয়েদের করোনার হাত থেকে বাঁচিয়ে দিচ্ছে। সংক্রমণ হলেও যে কারণে পুরুষের তুলনায় মৃত্যুহার অনেক কম। অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি প্রেসের সাপ্তাহিক স্বাস্থ্য জার্নাল ইউরোপিয়ান হার্ট জার্নালে এই গবেষণা রিপোর্টটি প্রকাশিত হয়েছে।
রিপোর্টে বলা হয়, মানুষের হৃদযন্ত্র, কিডনি, ফুসফুস-সহ অনেক প্রত্যঙ্গে অ্যানজিওটেনসিন-কনভার্টিং এনজাইম-২ (এস-২) থাকে। এই এনজাইমটি করোনা ভাইরাসকে ফুসফুস-সহ মানব শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে আক্রমণের ক্ষেত্রে সাহায্য করে। কোষের বাইরের অংশে থাকা এস-২ রিসেপটর হিসেবে কাজ করে। ফলে, এটি করোনা ভাইরাসকে কোষের মধ্যে প্রবেশে সাহায্য করে। কেবল হৃৎপিণ্ড,কিডনি বা ফুসফুস নয়, পুরুষের টেস্টিকলেও উচ্চমাত্রায় এস-২ থাকে। আর এটাই পুরুষের অধিক মৃত্যুর কারণ।
রিপোর্টে আরও বলা হয়, হৃদযন্ত্র, কিডনি, ডায়াবেটিস চিকিৎসায় বহুল ব্যবহৃত এস ইনহিবিটরস বা অ্যানজিওটেনসিন রিসেপটর ব্লকার্স (আরবস) ওষুধগুলো শরীরে এস-২ এনজাইমের মাত্রা বাড়তে দেয় না। ফলে এসব ওষুধ খেলে, করোনার ঝুঁকি বাড়ে না। সেক্ষেত্রে হৃদযন্ত্র, কিডনি, ডায়াবেটিস বা এ সংক্রান্ত কোনও অসুখে ভোগা কেউ যদি করোনায় আক্রান্ত হন, সেক্ষেত্রে এসব ওষুধ বন্ধ না-করার পরামর্শ দিয়েছেন গবেষকরা।

No comments

Theme images by 5ugarless. Powered by Blogger.